শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

কক্সবাজারে বিপণি বিতানে পোশাকের গলাকাটা দাম

এম এ সাত্তার
একদিকে জনসংখ্যার চাপ, অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি। এরপরও পণ্যের চাহিদা আশানুরূপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন প্রতিটি কাপড়ের দোকানেও উৎসব বিহীন বেড়েছে বিক্রি। এই সুযোগে দোকানিরা কৌশলে ইচ্ছেমতো দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন। কাপড়ের গায়ে মূল্য না লাগিয়ে নিজেদের মনগড়া কোড বসিয়ে কাপড় বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অধিকাংশ ক্রেতা নিরুপায় হয়ে কিনছেন পোশাক।
কক্সবাজারের প্রায় মার্কেটে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা ছাড়া যুগপৎ একচেটিয়া দামে কাপড় বিক্রি করে আসছে ৯৯% বহিরাগত লোকজন। কর্তৃপক্ষের বাজার তদারকির অভাবে এমনটাই করতে সাহস পাচ্ছে তারা। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার দাবি তুলেছে স্থানীয় ভুক্তভোগী ক্রেতারা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রায় সব দোকানেই পোশাকের অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে।পোশাক কেনার পর সেটি পরিবর্তন করতে চাইলে বাড়তি মূল্য দিতে হয়।সময়ের সাথে বিভিন্ন উৎসবের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কাপড়-জুতার দাম হাঁকেন কেনা দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলোতে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই বলেও অভিযোগ তাদের।
কক্সবাজারের একটি স্বনামধন্য বিপণি বিতানে ফ্যামেলী নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা জয়নাল আবেদীন ফারুকের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের সাথে। ফারুক জানায়, সে একটি থ্রি পিস দেখেন, কাপড়টি পছন্দ হলে দাম জানতে চাইলে আনুমানিক হাজার বারোশত টাকার কেনা কাপড়ের দাম চাওয়া হয় ৫ হাজার টাকা।পরে কাপড়ের গায়ে উপর যেহেতু মুল্য দেয়া হয়নি, তাই প্রতারণা হওয়ার ভয়ে দর-কষাকষি পর্যায়ে না গিয়ে কাপড়ের কালার পছন্দ হয়নি বলে গা বাঁচিয়ে ছবি তুলে চলে আসি। অন্য একটি মার্কেটে গিয়ে ছবিটি দেখামাত্র একই ব্রেন্ডের থ্রি-পিস বের দেয়। এবং আঠারশো টাকা দাম বলেন। দরদাম করে ১২ শত টাকা দিয়ে কাপড়টি কিনেছে।
ছালাম মার্কেট, নিউ মার্কেট, ফজল মার্কেট, হকার মার্কেট, কবির মার্কেট, ফিরোজা মার্কেট, পৌরসভা মার্কেট, বড় বাজার, সমবায় সুপার মার্কেট সহ একাধিক সুপার শপের কাপড়ের দোকান গুলোতে পোশাকের গলাকাটা দাম নিচ্ছে দোকানিরা। এমনকি থান কাপড়ের দোকান গুলোতে একচেটিয়া দামে কাপড় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রেডিমেড পোশাকেরও অতিরিক্ত দাম ঢ়রাখছে। স্থানীয় সিংহভাগ বিপণি বিতানে এভাবেই চলছে গলাকাটা ব্যবসা।ফলে কাপড় কিনতে গিয়ে ঠকতে হয় ক্রেতাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাপড়ের ওপর দাম লেখা নেই।অথচ প্রত্যেক আইটেমে দোকানিদের নির্দিষ্ট কোড বসানো আছে কাপড়ের উপর। অর্থাৎ ক্রেতাদের কাছ থেকে যেকোন পোশাকের ক্রয়কৃত মূল্যের দ্বিগুণ/তিনগুণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অপকৌশল হিসেবে এই কোড ব্যবহার করছেন তারা।যে কারণে কাপড়ের প্রকৃত দাম কত তা দোকানের কর্মচারী ছাড়া অন্য কোনো ক্রেতা বুঝতে পারে না। কোড দেখে ক্রেতাকে কাপড়ের দাম বলা হয়। ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দাম হাঁকানো কাপড় কেউ দরাদরি করে কিনছে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায়।একই পোশাক আবার অনেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়ও কিনছেন ক্রেতা।
শুধু কক্সবাজার টাউনে ছোট-বড় মিলিয়ে দুই হাজারের অধিক কাপড়ের দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা মতে, এসব দোকানে দিনে কমপক্ষে একদেড় কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। এই বাণিজ্যের পুরো অংশই হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে করা হয়। শুধু কক্সবাজার টাউনে নয়, জেলা জুড়ে সব মার্কেটে একই অবস্থা বিরাজমান রয়েছে।যার কাছ থেকে যেভাবে পাচ্ছেন হাতিয়ে নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। যা একপ্রকার প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।
অভিযোগ উঠেছে, দেশিয় কাপড়ে ইন্ডিয়ান প্রচার করে এবং বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল, সিনেমা আবার ,কখনো কখনো নায়ক নায়িকার নামের উপর নামকরণ করে তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছে। মার্কেটিং করতে আসা ক্রেতা জানান, কাপড়ের দোকানগুলোতে চলছে এক প্রকার পকেটকাটা। পণ্যের গুণগত মানের সঙ্গে দামের কোনো মিল নেই। বিশেষ করে শিশু ও মেয়েদের পোশাক নিয়ে চলছে নৈরাজ্য। দোকানিরা আন্দাজে দর হাকিয়ে আছে, পছন্দ করলেই অতিরিক্ত দামে ক্রয় করতে হচ্ছে।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে আপন টাউওয়ারে পোশাক কিনতে আসেন কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল কাদের রানা। তিনি বলেন, গত বছর যে শার্ট কিনেছি আটশত থেকে হাজার টাকায়। সেই পাঞ্জাবি এবার কিনতে হচ্ছে দেড় হাজারের বেশি দামে।নবাব মার্কেটে কাপড় কিনতে আসা গৃহিণী রাশেদা বলেন, সাধারণ একটি থ্রি-পিস, যা আগে ছয়সাতশত টাকায় বিক্রি করা হতো। এখন এসব কাপড় কিনতে হচ্ছে তের থেকে পনেরশত টাকা। জ্বালানি মূল্যের অযুহাত দেখিয়ে দোকানিরা ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
দেলোয়ার হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ছালাম মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে একটি শাড়ি পছন্দ করে দাম কতো জানতে চাইলে কাপড়ের গায়ে ৪/৫ অংকের একটি সংখ্যা দেখে দশ হাজার পাঁচ শত টাকা দাম হাঁকছেন কর্মচারী।পরে দরকষাকষি করে তিন হাজার টাকায় শাড়িটি কিনেছি। এরপরও দাম মনে হচ্ছে বেশি নিয়েছে। কক্সবাজারের পোশাকের বাজারে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার কারণে অভিযান চালনো উচিত। হকার মার্কেটের দোকানদার আবদুল্লাহ বলেন, এবার ঢাকা থেকে বেশি দাম দিয়ে পোশাক কিনতে হয়েছে। বিশেষ করে হাতের কাজ করা থ্রি-পিসের বেশি দাম দিতে হয়েছে। যে কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মূল্য গোপন করে পোশাকের গায়ের উপর লিখে রাখা কোড দেখে দাম হাঁকিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে দ্বিগুণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আহমেদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসন ও ভোক্তাধিকার অফিসের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বসে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ভালো হতো। এতে দু’পক্ষেই লাভবান হবেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ক্রেতা হয়রানির এমন অভিযোগ অহরহ পাচ্ছেন। শীঘ্রই এ ব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION